Showing posts with label এ এফ এম বাইতুল্লার স্বরচিত কবিতা. Show all posts
Showing posts with label এ এফ এম বাইতুল্লার স্বরচিত কবিতা. Show all posts

Monday, August 6, 2018

১৫. হৃদয়-কথন

                       নীল আকাশের দেশে
                       পানসি ডিঙারে মোর ভাসে ,
                        রাশি -রাশি মেঘপুঞ্জ তুলা
                         মনেতে দেয় দোলা ।।

নীল আকাশের দেশে
মন ফেরে নিরুদ্দেশে ,
যখনি তোমায় খুঁজি
তুমি কোথাও  হারাও  বুঝি !!

                                      মেঘের সনে চুপে
                                      মেঘনাদের ঐ রূপে
                                      শত সহস্র বাণ ছুঁড়ে
                                      বিদীর্ণ কর হৃদয় - - -
                                      ওহৃদয় হরা চূমে ।।

শত সহস্র যোজন দূরে
তপ্ত বালুচরে ,
কঠিন পাথরে মাথা কুটে
এ মন তোমায়  খুঁজে ফেরে !!

                                     নিবিড় নিশুতি রাতে
                                     নীরব রহি শুধুই চক্ষু মুদে
                                     মনের আকাশ -পটে
                                     লাল রক্ত-গোলাপ ফোটে ।।

                         ------------এ এফ এম বাইতুল্লা
                                              ০৭/০৮/২০১৮

১৩ .স্বপ্নে রাখী

রাতের শেষে ঘুমের দেশে
ওঠছে রাখী  দুলছে শাখী
বলল পাখি খুলতে আঁখি
জাগবে শহর পাড়া ।।

মায়ের বোলে কলের জলে
আলতো করে মুখটি ধুয়ে
টিফিন করি চা-বিস্কুটে ।।

আট-টা হলে পড়ার ঘরে
মা তখন রান্না  করে
বাবা কহে ব‍্যস্ত-স্বরে
কহেন রাখী ,  মা কি করে ??

প্রশ্ন করি মায়ের কাছে
বাবা যদি অফিস কর
তুমি কেন রান্নাঘরে !!

মায়ের চোখে জল করছে টলমল
কহে স্বপ্ন  আমার রাখী
পড়াশোনার প্রতি কোরোনা আর ফাঁকি ।।

                  -----------এ এফ এম বাইতুল্লা
                                             ০৭/০৮/২০১৮

Saturday, August 4, 2018

১০ . এক টুকরো রুটি

রূপোলী  গাঁয়ের রূপবতী রূপসা তার  নাম
জানেনা সে মাতা-পিতার সঠিক নাম-ধাম ।
বনের পথে মনের রথে করছে ছুটোছুটি
জোটে না তার দিনের শেষে অন্ন রুটি রুজি । নিশিরাতে তারার দেশে খুঁজে সে হয়রান !
কোথায় পাবে পিতৃপরিচয়ের সম্মান  !?
পিতৃহারা মাতৃহারা  অভাগিনী সে
অনাহারে অর্থাহারে চলছে কোনক্রমে ।
এমনি করে  রাতের পরে দিন
শুকিয়ে লালা কন্ঠনালা হয় যে শরীর ক্ষীন ।
যুদ্ধরথে জয়ের পরে হয় যে খুশি মন
মনের জোরে ভর করে সে চলছে সারাক্ষণ ।
ভিটে-মাটি কিছুই তো নেই ,আছে শরীর ধন ।
শরীর বন্ধু ,শরীর শত্রু- শরীর নিয়েই তাড়া
মাথার উপর ছাদ পেতে সে গাড়ছে খুঁটিগাড়া , অসহায়ের মাথায় যেমন ঝোলে বলীর খাঁড়া !!
"পান আনতে চুন খসে তার" এমনি সময় ঘট
ভরা জীবন যৌবন তার উথলে ওঠে পট ।
শরীরভাঁজে জোয়ার ওঠে বলিরেখার তট
সর্বকামে হাত চলে  তার এমনি সে চটপট । কাজেরমেয়ে কাজ করে সে ঘরের পরে ঘর ভালোবেসেই কাজ করে আপন কিংবা  পর
তার ভালোবাসায় আপন করে নিল সকল ঘর ।
ও পাড়ার এক দুষ্টু ছেলে দুলু  তার নাম
পাড়াপড়শি  নাম শুনে করে রামনাম ।
বৈশাখেতে ঝড় জলেতে ভাঙছে আকাশখান
পেটের দায়ে রূপবতী ধাইছে  তখন কাজের প্রতি  টান । আকাশ ভাঙা বৃষ্টি ঝড়ে হলো যখন  স্নান ।
দুলু তখন সন্দিপনে ছিল যে কোনখান  !?
হিংস্র যেমন ঝাঁপায়ে পড়ে হরিণীর উপর
রূপবতী ঘায়েল তেমন এ কোন নরবানর  !?
সুহাসিনী গর্জে ওঠে আঁখিতে বহ্নিশিখা
চিৎকারেতে  কাঁপলো আকাশ মেঘবিদুৎ রেখা
গায়ের জোরে মরদ ছোটে এমন একঠেলায়
এমনি করেই সাঙ্গ করে দুলুর মনোলীলা ।
জলস্রোতে সময় চলে কাটলো কিছুদিন
মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করায় দুলু বাজায় মাদোলবীন ।
জনে জনে রটায়  রূপসা নষ্টা মেয়ে
কাজকাম তার বন্ধ হলো  অপপ্রচারে ।
ক্ষুধার জ্বালায় চক্ষু বুঁজে দাঁড়ায় শহর এঁদোগলি , লুটতরাজের লুট চলে যেথায় সারাদিন ।
পারেনা  সে হেরে যেতে, এমন পাহাড়ি মন ,
বেরিয়ে পড়ে নরক ছেড়ে একটু আলোর সন্ধান । দিনের পরে রাত ,রাতের পরে দিন
অন্নহীনে শরীর বড়ই ক্ষীন ।
আলুথালু কেশ , চক্ষু জ্বালাময়ী
পাগলী বেশে হাত পাতে  খাবার কিছু দিন। ভদ্রলোকের ভদ্র পোশাক রূপোলী দাঁতের হাসি
যাও যাও যাও  যাও হেথায় কিছু নাহি ।
প্রতিবাদী রক্তক্ষয়ী শরীর কহে নাওগো কেড়ে খাবার টুকরো রুটি নিল তুলে  ভুলে সকল জ্ঞান ।
চোরি কিয়া, চোরি -চোরি কিয়া ওঠলো সকল রব
ছুট ছুট ছুট ছুটছে নারী অর্ধনগ্না -শরীর  !
নগ্না তো নয় !অন্ধ ওদের  চোখ ।
চলন্ত গাড়ি নিল কাড়ি প্রাণ-পাখি তার , হায় !
পথে যখন ছড়িয়ে তার শরীর নাড়িভুঁড়ি ,
হাতেও তখন অক্ষত তার একটুকরো রুটি ।।

                 -------------এ এফ এম বাইতুল্লা
                                       ০৫/০৮/২০১৮

Thursday, August 2, 2018

০৭ : মানবিকতা ফোন-বাক্সেতে বন্দী

সকালেই ঘুম থেকে ওঠে আমি দেখি
চারিদিকে আলোয়  সব করে ঝিকিমিকি
পাখি সব করে রব করে কিচিমিচি ।
ব্রাশ হাতে পায়চারি সকালের কাজ
দিবানিশি চিন্তায় কপালেতে ভাঁজ ।
গরম চায়ের জল ফোটে টগবগ
বোকা গিন্নিটা জ্বলেপুড়ে করে বকবক ।
ঝটপট স্নান চটপট সাজ
পড়ে আছে ঢের বেশী ,আপিসের কাজ ।
ট্রেন-বাস, সাইকেল ছুটে চলি তাই
ঠিকঠাক  আপিসে পৌঁছানো চাই ।
সাইকেল রাস্তা দারুণ দুরাবস্থা
ইঁট-কাঠ পাথরের সারি
জানিনা কোন মরণফাঁদ নেবে প্রাণ কাড়ি ।
প্রত‍্যহ ছুটটান স্টেশনে
ঠিক নটা ত্রিশ এ পৌঁছাতে হবে ।
পড়িমরি করি  তাই
সাইকেল ছোটে  ভাই
পাঁই-পাঁই, বাই -বাই ।
বুকের যন্থটায়  ছাড়ে দম সাঁই সাঁই !

চলার পথে দেখি প্রতিদিন
কত‌ই না ঘটনা স্বপ্ন রঙিন ।
কেহ ছোটে ব‍্যাগ কাঁধে ,কেহ বাঁধে গান
কারো শোকে চোখ রাঙে , সিগারেটে টান ।
কেহ দেখি চোখ বুঁজে গানেতেই বুঁদ
চানাওয়ালা চানাতে দেয় ঝাল-নুন ,
কারোর বা চিন্তায় মুখখানি চুন  ।
আমি এক  সাদামাটা নিত‍্য পথিক
সাদামাটা হলেও  তো পথ চলি ঠিক ।
দেখি যত দুনিয়ায়  নিত‍্যরূপ
সকলেই ব‍্যস্ত  নৃত‍্যের‌ ধূম ।
সর্বদা ব‍্যস্ত ফেসবুক চ‍্যাট
খোকাখুকি ব‍্যস্ত নিয়ে টমক‍্যাট ।
দুখী -সুখী মনটা অসহায়তায়
ফেসবুক চ‍্যাটেতে সহমত চায় ।
চোখে-চোখে অহরহ লাল নীল পদ্ম
কামরার কোণে বসে হাসে পাগলাটে শম্ভু ।
প্রত‍্যহ দেখে দেখে সহে গেছে সব
ভাবুক পাগল -মন  করে বক্ বক্ ।

প্রত‍্যহ দেখি এক পাগলাটে বুড়ো
স্টেশনে বেচে কলা-মূলো ।
বাজার যেমনি থাক বেশ হাসি-খুশি
এককালে সেই নাকি ছিল বড় চাষী ।
একদিন ঘটে গেল অযাচিত কিছু
ভাবিনি কল্পনায় শনি ছিল তার‌ পিছু ।
আপিসের আপট্রেন বেশ হুড়োহুড়ি
ডাউনে বুড়ো আনে শাক- সব্জি ।
ডানদিকে খোলা পেয়ে নিল তুলে ঝাঁকা
নিমেষে আপট্রেন দিল কোষে এক ধাক্বা ।
রুকাসুখা প্রাণ তার রক্তাত শরীর
থরথরিয়ে কাঁপে বুক কাঁপে থিরথির ,
উৎসুখ যাত্রী ধুকপুক বুক
ব‍্যস্ত সমস্ত ফোন ক‍্যামেরার লুক ।
হেঁসে-বেঁকে  কারা কত তুলছে  ছবি
দিয়ে দেবে ফোনবুক-ফেবুতে কিবা বাহাদুরী !
ভিড় ঠেলে এলো চলে , প্রবীণ এক শিক্ষক
কাঁপা কাঁপা হাত ছোঁয়ালো বৃদ্ধের  কপালের উপর
কাঁপা-কাঁপা স্বর  তার গেল জড়িয়ে
কোমল করুণ সুর বাজে একতারে ।।

                      ---------------এ এফ এম বাইতুল্লা
     
                                                 ০৩/০৮/২০১৮

Monday, July 30, 2018

০৫. শূন‍্য


শূন‍্য মানে শূন‍্যতা নয় ,শূন‍্য অনেক দামী
শূন‍্য মাঝেই  প্রদীপ জ্বালে নক্ষত্ররাজী ।
শূন‍্য মানে শূন‍্যতা নয় ,শূন‍্য অনেক দামী
শূন‍্য মনেই ভেসে ওঠে ,স্বপ্ন সারি সারি ।
শূন‍্য থেকেই শুরু জেনো,জীবন-মরণ  ভেলা,
শূন‍্য মাঝেই ঘটছে  দেখো ,প্রভুর লীলাখেলা ।
শূন‍্য ভেবে যারে তোরা করিস অবহেলা ,
তার মাঝেতেই পাবি খুঁজে সৃষ্টি-নাশের খেলা ।
জীবন মানে হয় যদি গো যোগের রাশিফল ,
মরণে তা শূন‍্য হয়েই জ্বলছে চিতার পর ।
শূন‍্য হ্নদয় শূন‍্য তো নয় ,স্বপ্ন ভরা আঁখি
স্বপ্নডানা মেলে সেথা বদ্ধ খাঁচার পাখি ।।

পাপ-পূর্ণে হয় যদিগো  স্বগ-নরক বাস ,
সৎ কর্মে দাও না গড়ে  জীবন ইতিহাস ।
শরীর জেনো তোমার তো নয় ,ঈশ্বরেরি দান
শূন‍্যসম হবে ক্ষত পুড়ে যে ছাই - শ্মশান ।
জীবনস্রোত‌ উথলে ওঠে জোয়ারেরি টানে
স্বপ্নসম ভাঙে সেও ,ভাঙে ভাঁটার টানে ।
অনেক নামি-দামীগাড়ি ,বসত-বাটি যার
অসৎ কর্মে পূর্ণ যদি ,হয়গো জীবন তার
মন ভাবনায়  মনের দেশে ,সে যে বড়‌ই অসহায় !!

ভাবছে গুপী চুপি চুপি পরবো টুপি আরবভূমি
হবো পগারপার ,
কিয়ামতে বেহেশত নয় !
জাহান্নাম‌ই সার !!

প্রেম জোয়ারে ভাসতে যদি
ভাসতে তুমি চাও ,
মনের সকল অহং ছেড়ে
যাওগো ভেসে যাও ------------
তার মাঝেতেই পাবে খুঁজে
ঈশ্বরেরি নাও ।
যাওগো ভেসে যাও  !!

                --------------এ এফ এম বাইতুল্লা
     
                                       ০১/০৮/২০১৮

Sunday, July 29, 2018

৩৩ . প্রেতাত্মা

আজ চল্লিশোধর্ব , ব্যস্ততম জীবন
চাকরী , ব‍্যবসা ,সংসার নিয়ে জবুথবু
তবুও ছুটি গ্ৰাম থেকে শহর , শহর থেকে নগর ,দেশ থেকে দেশান্তর --------------!
এ অন্তহীন ছোটাছুটি ।
সত‍্যান্বেষণ , টুকরো টুকরো ছবি ধরি
দেশ-দশ,পুরুষ-নারী , কত‌ই না ছবি !

যখন ছোট্ট ছিলেম ,      পাঠশালায় পড়তেম
নির্জন দুপুরে ,               বাড়ি ফেরার পথে      
হারুদের আমবাগানে গা ছম্ ছম্  করত  ।
নিশুত জোৎস্ন‍্যা রাতে শুনতেম - - -
তালপাতার খস খস শব্দ ।
কুশায়া ঢাকা ভোরে আমলিতলায় - - -
গা ছম্ ছম্ , শিহরিত মন !
স্মৃতির পাতায় সব ঘুরপাক  খায় ।।

 সুস্থ‍  মস্তিষ্কের সমাজ‌ আজ চিন্তিত
প্রেতাত্মারা নিশুত রাতে নয়
নির্জন দুপুরে নয় ,সদা সর্বদা  সর্বত্র
ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে , বহুরূপী সাজে !

স্কন্ধ কাটা ভূত নয় , দিব‍্যি মাথাওয়ালা ভূত
সুস্থ‍-অসুস্থের সাথে  ,সভ‍্য-অসভ‍্যের মাঝে
সুযোগ সন্ধানী একপ্রকার জীব ।
উচ্ছ  ঘ্রাণশক্তি সম্পন্ন , গন্ধ শুঁকে শুঁকে বেড়ায়
লোলুপ হায়েনার শ‍্যেন দৃষ্টি
ক্ষুধার্ত আত্মা না প্রেতাত্মা !
ওদের কিসের খোঁজ ?

শুধু বাড়িতে নয় ,গাড়িতে নয় , অফিস-কাচারি নয় ,
গ্ৰাম-শহর , রাস্তার অলিতে গলিতে নয় !
ফেসবুক ,ম‍্যাসেঞ্জার-ইন্স্টার দুনিয়াতেও
ওদের অবাদ বিচরণ ।
ওরা কারা ? ওরা কি অসুস্থ !
মৃত আত্মার শরীর ??

নারী -ছবি , দৃশ‍্যপট ,অনলাইন--------
মুহুর্তে শত শত প্রেতাত্মা  জড়ো হয়
শুরু করে ওরা পাথর ছোঁড়া
শব্দবৃষ্টি , বাক‍্যবৃষ্টি , দৃশ‍্যবৃষ্টির দ্বারা
ক্ষত-বিক্ষত করে ,
শুষে নিতে চায়  লোলুপ জিহ্বায় ---------
অমোঘ কালের তৃষ্ণা !
জুড়াতে চায় দেহমন শরীর !
চাই -চাই ,আরো- আরো , আরো বেশী করে চাই
শরীর -শরীর, শরীর !

কে দোষী ? কারা দোষী ?
কি অসুখ ?
এভাবে , প্রেতাত্মারা পায় কি আত্মার সুখ ??

আজো ঘুমের মধ‍্যে চমকে উঠি
প্রার্থ‍না করি অমোঘ শক্তির কাছে
যদি তুমি সত‍্যিই থাকো
তবে হানো সেই শুভশক্তি
পরাজিত হোক  অশুভশক্তি
জাগুক  সমাজ ,দেশ-দেশান্তর ।।

                       ----------------এ এফ এম বাইতুল্লা

                                               ২৯/০৭/২০১৮

১১৬ : :। পূর্বাভাস

দেখি দূর দিগন্তে সূর্যাস্তে ! রক্তিম আভায় আকাশ বিহঙ্গেরা ফিরিছে বাসায় ডানা মেলি উদ্ধাকাশ । এ কার বিদায়ের পূর্বাভাস !? যাবার আগে তার বার্ত...